বুধবার ১৫ এপ্রিল ২০২৬ - ১৭:০১
পোপ লিও চতুর্দশের অবস্থানের প্রশংসায় আয়াতুল্লাহ রজবির পত্র / “ট্রাম্প যুগের ফেরাউন”

ইরানের ইমাম খোমেনি (রহ.) শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান আয়াতুল্লাহ মাহমুদ রজবি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের নেতার প্রতি ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, যদি হযরত ঈসা (আ.)–এর অনুসারী এবং সব আব্রাহামীয় ধর্মের মানুষ এই যুগের ফেরাউনের অহংকার, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে না যায়, তবে ভবিষ্যতে আরও অবমাননা ও বিপদের সম্মুখীন হতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উচ্চতর হাওজা কাউন্সিলের সদস্য এবং মজলিসে খোবরেগনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আয়াতুল্লাহ মাহমুদ রজবি পোপ লিও চতুর্দশের প্রতি পাঠানো এক পত্রে নিরপরাধ শিশু, নারী ও পুরুষের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি চিঠিতে আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবমাননাকর আচরণ শুধুমাত্র ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি হুমকি নয়, বরং তিন ইব্রাহামীয় ধর্মের প্রতিই স্পষ্ট অবমাননা।

নিচে আয়াতুল্লাহ রজবির পত্রের পূর্ণ অনুবাদ দেওয়া হলো:

بسم الله الرحمن الرحیم

 إِذْ قالَتِ الْمَلائِکَةُ یا مَرْیَمُ إِنَّ اللَّـهَ یُبَشِّرُکِ بِکَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ الْمَسِیحُ عِیسَی ابْنُ مَرْیَمَ وَجِیهاً فِی الدُّنْیا وَ الْآخِرَةِ وَ مِنَ الْمُقَرَّبِینَ

“যখন ফেরেশতারা বলল, ‘হে মারইয়াম! আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক বাণীর সুসংবাদ দিচ্ছেন—তার নাম হবে মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম; তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত ও আল্লাহর নিকটবর্তী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।’” (সূরা আলে-ইমরান, ৪৫)

মাননীয় পোপ লিও চতুর্দশ,
সর্বপ্রথম নিরপরাধ শিশু, নারী ও পুরুষের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আপনার মূল্যবান বক্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই অবস্থান মহৎ আবরাহামীয় নবী হযরত ঈসা মসীহ (আ.)–এর শিক্ষা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন।

পবিত্র কুরআনে অসংখ্য আয়াতে হযরত ঈসা (আ.), তাঁর পবিত্র জননী হযরত মারইয়াম (আ.) এবং তাঁর বিশ্বস্ত অনুসারী ও হাওয়ারিদের প্রশংসা করা হয়েছে—এ কথা আপনার অবগতির বাইরে নয়।

ইরানে আমরা দীর্ঘকাল ধরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানে বসবাস করে আসছি।

ইসলামি বিপ্লবের মহান শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহিল উযমা সাইয়্যেদ আলী হুসাইনি খামেনেয়ী (রহ.) বহু বছর ধরে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান শহীদ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং নিবিড় সহমর্মিতা প্রকাশ করতেন। তিনি সমগ্র ইরানি জনগণের জন্য—খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ—একজন স্নেহশীল পিতার মতো ছিলেন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দিত প্রেসিডেন্ট, নিরপরাধ মানুষদের হত্যা ও দমন-পীড়নের পাশাপাশি—ইসলাম ও শিয়া পৃথিবীর সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, যিনি খ্রিস্টানদের প্রতিও গভীর মমতা প্রদর্শন করতেন—তাকে ৪০ দিন আগে সিয়োনিস্ট চক্রের সহযোগিতায় হত্যা করেছে।

এই আচরণ শুধু ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি নয়, বরং সব আবরাহামীয় ধর্মের বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য অবমাননা।

সব নবীই তাঁদের অনুসারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন অন্য ধর্মের নেতাদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ থেকে বিরত থাকতে। আমাদের ও আপনাদের নবীর শিক্ষায়ও ধর্মীয় নেতাদের প্রতি যে কোনো ধরনের অসম্মান ঘৃণিত ও অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবার আপনাকেই—বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতাকে— উন্মুক্তভাবে একাধিকবার অবমাননা করেছেন।

আমি এই আচরণের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি এবং হযরত ঈসা (আ.)–এর অনুসারীসহ সব আবরাহামীয় ধর্মানুসারীকে সতর্ক করছি: যদি আমরা এই যুগের ফেরাউনের অহংকার, দম্ভ ও স্বেচ্ছাচারের বিপরীতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে ব্যর্থ হই, তবে আরও অবমাননা ও বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। এই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি নাগরিকদের দায়িত্ব আরও বেশি।

আব্রাহামীয় ধর্মসমূহ—বিশেষত মুসলিম ও খ্রিস্টান আলেমগণ—একসঙ্গে কাজ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষা এবং মানবতার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

শেষে, প্রার্থনা করছি—যে পরম ত্রাণকর্তার আবির্ভাবে হযরত ঈসা (আ.)–ও উপস্থিত থাকবেন—তার আগমনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক এবং অত্যাচার ও অত্যাচারী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হোক। ইনশাআল্লাহ।

মাহমুদ রজবি
প্রধান, ইমাম খোমেনি (রহ.) শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha